পাট শাকের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ

পাট শাকের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণঃ

পাট শাকঃ

আয়ুর্বেশাস্ত্র মতেঃ এ শাক রক্তপিত্তনাশক ও বাত দূর করে।

পাট শাকের চিত্রঃ

আমাদের দেশে সচরাচর পাট শাক খাওয়া হয়। এতে পিত্তদোষ দমন করে এবং অন্যান্য দ্রব্য রুচিকর করে। সেজন্যে তরকারির আগে এ শাক খাওয়ার নিয়ম আছে।

পাট গাছের বর্ণনাঃ এটি বর্ষজীবি উদ্ভিদ। পাতা দুই থেকে চার ইঞ্চি লম্বা হয়। চওড়ায় দু’ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাতার কিনারা করাতের মতো খাঁজকাটা। আগার দিকটা বেশ সরু। ফুলের বোঁটাও ছোট। পাপড়ি পীতবর্ণ। পাটের শুকনা পাতাকে ‘নলতা’ বলা হয়।

অন্যান্য রোগেঃ রক্ত আমাশয় রোগ উপশম হয়। এছাড়াও পাটের শুকনা পাতার গুঁড়া (দেড় গ্রাম) ভাতের সাথে খেলে মলের বেগ অনেকখানি কমে যাবে।

রক্ত আমাশয় প্রবল হলে পাটের শুকনা পাতা গুঁড়া এক গ্রাম এবং সমপরিমাণ হলুদগুঁড়া এক সাথে মিশিয়ে ঠান্ডা পানির সাথে খেলে আরাম হবে। এ পরিমাণ ঔষধ দিনে দু’বার করে খাওয়া দরকার। সাধারণভাবে আমাশয় সারতে এক থেকে দু-সপ্তাহ সময় লাগে।

পেট খারাপেঃ পাটের বীজের গুঁড়া দেড় থেকে দু’গ্রাম, মধু এক চামচ এবং আদার রস সিকি চামচ এ তিনটি এক সাথে মিশিয়ে সামান্য ঠান্ডা পানি মিশিয়ে খেলে পেট খারাপ ভাল হয়। প্রথমবার ঔষধ প্রয়োগ করে যদি তেমন সুফল না পাওয়া যায় তবে তিন ঘন্টা বাদে একই পরিমাণ ঔষধ আবার প্রয়োগ  করা দরকার। রোগীকে এর সাথে এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে দেড় গ্রাম খাবার লবণ, আধখানা লেবুর রস ও পনের থেকে ত্রিশ গ্রাম গুড় গুলে একটু একটু করে খাওয়াতে হবে।

মূত্রাশয়ের রোগেঃ বেশি প্রস্রাব হলে। কোঁথ দিলে প্রস্রাবের সাথে সাদা চুণগোলা পানির মত ঘোলাটে প্রস্রাব হয়। প্রসাবের বেগ থাকলেও ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব হয়। এ রকম অবস্থায় ৫০ মি.লি গরম পানিতে দুই গ্রাম শুকনা পাটের পাতা ভিজিয়ে দশ থেকে বারো ঘন্টা বাদে সে পানি ছেকে খেলে প্রসাবের রোগে উপকার হয়।

পেটের যন্ত্রণায়ঃ শুক্‌না পাটের পাতাকে পুড়িয়ে তার ছাই এক থেকে দেড় গ্রাম এবং মধু তিন চামচ মিশিয়ে চেটে চেটে খেলে যন্ত্রণা সেরে যায়।

অবিরাম জ্বরেঃ গাছের টাট্‌কা পাতা ত্রিশ থেকে চল্লিশ গ্রাম চোট আকারে কেটে মাটির অথবা ষ্টিলের পাত্রে ১৭০ মিলিলিটার পানি দিয়ে তাতে কাটা পাটপাতা সিদ্ধ করতে হবে। সিদ্ধ করার সময় পাত্রের মুখ কোন কিছুর সাহায্যে ঢেকে দেয়া প্রয়োজন। পানি ফুটে পঞ্চাশ থেকৈ চল্লিশ মিলিলিটার পরিমাণ হলে পাত্রটি আঁচ থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে। সম্পূর্ণ ঠান্ডা হলে পরিষ্কার কাপড়ে ছেঁকে সব পানিটাই রোগীকে এক সাথে খেয়ে দিতে হবে। সারা দিনে দু’বার করে মাত্র দুই থেকে তিনদিন খেলেই জ্বর কমে যাবে। যদি সম্পূর্ণ ভাবে জ্বর না ছাড়ে, তবে আরও দু’দিন এভাবে খেতে হবে।

অপরিষ্কার পায়খানা হলেঃ পাটের শুকনা পাতার গুঁড়া দু’গ্রাম এবং সামান্য গরম পানি এক গ্লাস সকালে খালিপেটে খেলে পেট পরিষ্কার হয়।

লিভারের দোষেঃ সন্ধ্যাবেলায় দুগ্রাম পাট পাতা ৫০ মি.লি. গরম পানিতে ভিজিয়ে পরের দিন সকালে পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে পানিটা ছেঁকে নিয়ে খালিপেটে খেলে মাত্র সাতদিনেই ফল বোঝা যাবে। রোগীর অবস্থা বুঝে সাতদিন খাবার পর আরও সাতদিন খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

অগ্নিমান্দ্য হলেঃ টাট্‌কা পাতা (কচি পাতা) রস ২০ থেকে ২৫ মি.লি. আধ কাপ পানিতে মিশিয়ে সামান্য গরম করে একবার সাকলে ও আর একবার বিকেলে খেলে উপকার হয়।